বাংলা বিদ্যাচর্চার সঙ্গে যুক্ত ছাত্র-গবেষক-বিশেষজ্ঞদের নিয়মিত পারস্পরিক যোগাযোগের জন্য বাংলাবিদ্যার ছাত্র-গবেষক-বিশেষজ্ঞদের মঞ্চ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাংলাবিদ্যা সম্মেলন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে । প্রতিবছর আন্তর্জাতিক বাংলাবিদ্যা সম্মেলনের অধিবেশন আয়োজন করা হবে। প্রথম সম্মেলন আয়োজিত হচ্ছে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে । সম্মেলনের উদ্যোগে ‘বাংলাবিদ্যা’ শীর্ষক একটি গবেষণাপত্রিকা প্রকাশিত হবে। এছাড়া, সম্মেলনের ওয়েবসাইট-এ বাংলাবিদ্যার বিভিন্ন কেন্দ্র/বিভাগ সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য সংকলন করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
এধরনের সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তাব প্রথম ওঠে আসে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত বুদ্ধদেব বসু-সম্পর্কিত একটি আলোচনাচক্রের অবকাশে । ১৩ নভেম্বর, ২০০৮-এ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপকদের একটি সভায় এ-বিষয়ে বিস্তৃত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সম্মেলনের পক্ষ থেকে একটি ওয়েবসাইটে বাংলাবিদ্যা সম্পর্কিত তথ্য সংকলনের উদ্যোগ নেয়ার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়। সে-সভায় উপস্থিত ছিলেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বেলা দাস, শান্তনু সরকার; ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জরী চৌধুরী; গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঞ্জয় ভট্টাচার্য; দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অমিতাভ চক্রবর্তী; যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অচিন্ত্য বিশ্বাস; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম আকতার কামাল, ভীষ্মদেব চৌধুরী, রফিকুল্লাহ খান; বাংলা একাডেমি, ঢাকা’র ফেলো হায়াত মামুদ; বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উদয় চাঁদ দাশ; বিশ্বভারতীর মৃণাল কান্তি মন্ডল; এশিয়াটিক সোসাইটির গবেষক জিনিয়া রায়, শর্মিষ্ঠা বসু প্রমুখ। পরবর্তীতে, ১৭ জুন, ২০০৯-এ, এই সম্মেলন সম্বন্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আরেকটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিকুল্লাহ খান, ভীষ্মদেব চৌধুরী; দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অমিতাভ চক্রবর্তী; রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সফিকুন্নবি সামাদী; জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের খালেদ হোসেইন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌরেন বিশ্বাস; বাংলাদেশ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মাহবুব সাদিক, শোয়েব জিবরান; জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চঞ্চল কুমার বোস প্রমুখ। সেই সভায় দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১০-এর ফেব্রুয়ারিতে প্রথম সম্মেলন আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এছাড়া ঠিক হয় যে সম্মেলনের বিষয়সীমা বাংলা সাহিত্যবিদ্যায় সীমিত না রেখে সার্বিকভাবে বাংলাবিদ্যার প্রতিটি শাখাকেই আলোচ্য হিসেবে গ্রহণ করা হবে।এছাড়া, ‘বাংলাবিদ্যা’ শীর্ষক একটি গবেষণাপত্রিকা প্রকাশ করার উদ্যোগ নেয়া হবে। পরবর্তীতে নানা বাস্তব সীমাবদ্ধতার ফলে সম্মেলন আয়োজন সম্পর্কে কিছু অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হলে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভারতীয় ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ সম্মেলনটি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন । আধুনিক ভারতীয় ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক প্রকাশ চন্দ্র পট্টনায়কের সভাপতিত্বে একটি আয়োজক সমিতি গঠিত হয় । এই সমিতির উপদেষ্টা মনোনীত হন বিভাগের অধ্যাপক নন্দিতা বসু। সম্মেলনের আহ্বায়ক মনোনীত হন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অমিতাভ চক্রবর্তী । স্থানীয় আয়োজক সমিতির বৈঠকে সম্মেলন আয়োজন সম্পর্কে বিস্তৃত উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রথম সম্মেলনের সভাপতি নির্বাচিত হন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এবং বাংলা একাডেমি, ঢাকা’র ফেলো হায়াত মামুদ । প্রথম সম্মেলনের উপদেষ্টা মনোনীত হন ভারতবর্ষের রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক পবিত্র সরকার এবং বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ।